Saturday, August 18, 2018

বেলকুচি উপজেলার চেয়ারম্যান সমীপে

সম্মানিত বেলকুচি উপজেলা চেয়ারম্যান  বিগত ১৪.০৮.২০১৮ ইংরেজি তারিখে মাননীয় জেলা সভাপতি মহোদয়ের বক্তব্যেকে উপলক্ষ করে আপনি যে সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যমে সীমাহীন মিথ্যাচার করেছেন তার তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই আজকের এই লেখা। আপনার সেই ফেইসবুক স্ট্যাটাসের অধিকাংশ বিষয়ই  ছিল সীমাহীন মিথ্যাচার আর নানা রকম বিকৃতপূর্ণ তথ্যে ভরপুর। আপনার সেই বিকৃত- কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে আপনি প্রয়াত নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে জাতীয় নেতৃবৃন্দ, জেলা নেতৃবৃন্দ, উপজেলা নেতৃবৃন্দ , ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এমন কি প্রশাসনকেও কালিমাদিপ্ত করতে বাদ দেন নাই। আপনার এই অসংযত মনের অতিকথনে  সংগঠন, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে সেটার দায় স্বীকার করে অনতিবিলম্বে ক্ষমা ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য অনুরধ করছি।

  • আপনি লিখেছেন- “মানুষ নাম পালটায়, ধর্ম পালটায়  কিন্তু বংশপদবী পালটায় না। ওনার বংশপদবী বিশ্বাস, ওনার বাবার বংশ পদবী মন্ডল। how funny is it ? এরকম বংশপদবী রিবর্তন করা লোক খুব কম। ঠিক একই রকম আরও একটি রিবার আছে আমার নিজ ইউনিয়নেও। সেখানেও নিজেদের নাম এক রকম বংশ পদবীতে, বাবার নাম অন্যরকম, দাদার নাম আরও ভিন্ন রকম।“

জনাব মোহাম্মাদ আলী আকন্দ- সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করছি আপনাকে- বংশ পদবী কাকে বলে সেটা কি জানেন আপনি? বাঙালি মুসলমানের বংশ পদবী সম্বন্ধে ন্যূনতম ধারনাও কি আছে আপনার? বাঙালি মুসলমান আবহমানকাল ধরেই নানা রকম বৈচিত্র্যপূর্ণ পদবীতে ভূষিত হয়েছে। এখানে ধর্মীয় পদবীসমূহ যেমন ব্যবহৃত হয়েছে (সৈয়দ, মীর, আনসারী, গাজী, চিশতী, পীর, ফকির, মাস্তান, মোল্লা, শাহ, খাজা), তেমনি হয়েছে ভূস্বামী হিসাবে প্রাপ্ত পদবীসমূহ (চৌধুরী, মজুমদার, তালুকদার,  তরফদার, চাকলাদার, পন্নী, ভূঁইয়া / ভূঁঞা , মির্জা), ব্যবহৃত হয়েছে পেশা হিসেবে প্রাপ্ত পদবীসমূহ (কাজি, দেওয়ান, নিয়াজী, খন্দকার, পাটোয়ারী, মণ্ডল, মাতুব্বর, মুন্সী, মুহুরী, সরকার, হাজারী, প্রামাণিক, সরদার, হাওলদার, শিকদার, জোয়ার্দার), এছাড়াও আরও কিছু সম্মানজনক পদবীও (খান,বিশ্বাস, হক,লোহানী, ঢালী) এখানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। দয়া করে বলবেন কি তালুকদারদের বংশ পদবীতে কোথায় আপনি অসংগতি দেখেছেন ? আপনাকে একটা সাধারন প্রশ্ন করছি- ভূস্বামী হিসাবে প্রাপ্ত “তালুকদার বংশ পদবীর” অধিকারী কোন ব্যক্তি যদি পেশায় কাজী অথবা সরকার হয় তাহলে কি সে একই সাথে একাধিক পদবী ব্যবহার করতে পারবে? একই ব্যক্তি একই সাথে আব্দুল গফুর তালুকদার আর আব্দুল গফুর সরকার হওয়াটাই কি আপনার কাছে অসংগতি? সম্মানিত উপজেলা চেয়ারম্যান- ভূস্বামী হিসাবে প্রাপ্ত পদবীতে তিনি অবশ্যই আব্দুল গফুর তালুকদার। তালুকদারদের পারিবারিক সমস্ত দলিলে তার প্রমান দৃশ্যমান। তবে পেশাগত কারনে তাকে অনেকেই সরকার পদবীতে সম্বোধন করতেন। চেয়ারম্যান সাহেব- আপনার প্রতিহিংসার আগুনে ঘি ঢেলে দিয়ে বলছি- প্রায় অর্ধ-সহস্রাব্দি পূর্বেও আব্দুল গফুর তালুকদারদের পূর্বপুরুষদের হাতেই ছিল সমাজের নেতৃত্ব যেখানে তাদের পদবী ছিল মণ্ডল। যেটা এখন আমাদের মাননীয় সাংসদের বংশ পদবী। চেয়ারম্যান সাহেব- আপনি কি জানেন ইতিহাসের একটা দীর্ঘ সময় বাঙালি মুসলমানের পূর্বসারিদের ভারতবর্ষের অত্যাচারী শাসকগন নিম্ন শ্রেণী তথা অন্ত্যজ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত অনেকগুলো অস্পৃশ্য শ্রেণীর সংগে বর্ণ ব্যবস্থার বাইরে রেখে দিয়েছিল? কখনও কি ভেবে দেখেছেন কত মিথ্যা তাহলে এই বংশ পদবীর অহং? বলতে কোন দ্বিধা নেই- এই নিম্ন শ্রেণীর ভেতর থেকে উঠে এসেই আব্দুল গফুর তালুকদারদের পূর্বপুরুষরা তাদের শিক্ষা, জ্ঞান, মেধা আর নিরলস পরিশ্রমে নিজেদের যেমন উপরে তুলেছিলেন তেমনি তাদের দেখানো পথ ধরেই পদবীর বাইরে থাকা  অসংখ্য মানুষ আস্তে আস্তে সম্মানজনক সব পদবীর অধিকারী হয়েছিলেন। অহংকারী শ্রেষ্ঠ মোহাম্মাদ আলী আকন্দ- যে পদবীগুলোকে ছোট করে ইনিয়ে বিনিয়ে নিজের পদবীর বড়াই করতে চেয়েছেন সেই পদবীর প্রকৃত ইতিহাসও আপনার জানা উচিত বলে মনে করছি-
তালুকদার
তালুকদার আমাদের দেশে  ব্যবহৃত একটি সুপরিচিত বংশ পদবী। তালুকদার আরবি শব্দ “তালুক” এবং ফার্সি শব্দ “দার” এর সংমিশ্রণ। যার অর্থ তালুকের কর্তা। তালুকের ভূস্বামীদেরকেই তালুকদার বলা হতো। মুঘল ও ব্রিটিশ আমলে রাজস্ব ও ভূমি সংক্রান্ত বিষয়াদি থেকে যে সমস্ত পদবীর উৎপত্তি ও বিস্তার তার মধ্যে তালুকদার হচ্ছে সব থেকে সম্মানিত পদবী। প্রচলিত অর্থে যিনি জমিদার তিনিই তালুকদার। আর প্রকৃত অর্থে তালুকদার হল ক্ষুদ্র জমিদার যারা জমি ও ভূসম্পত্তি বন্দোবস্ত নিতেন সরকার এবং জমিদারদের কাছ থেকে। ফলে তারাই হতেন উপ-জমিদার। সাধারণত কতগুলো পরগনা নিয়ে এক একটি তালুকের সৃষ্টি হতো। আর তালুকদাররাই ছিলেন সেই তালুকের মালিক।
সরকার
সরকার শব্দটিও একটি অতিপরিচিত বংশ পদবী যার অর্থ হচ্ছে মালিক- শাসন কর্তা- কর্তা। অর্থ আদায় ও ব্যয় সংক্রান্ত কাজে যারা নিয়জিত থাকতেন তাদেরকেই বলা হতো সরকার। মোঘল আমলে এদেশে স্থানীয় রাজকর্মীদের এ পদবী দেয়া হতো। মোট কথা প্রধান কর্মচারী এবং সম্পত্তি দেখাশোনার কাজে নিয়জিত ব্যক্তিকে বলা হত সরকার।
মণ্ডল
সাধারন ভাবে সমাজের বা গ্রামের প্রধানকে বলা হতো মণ্ডল । তারা ছিল সমাজের অত্যন্ত প্রভাবশালী গোষ্ঠী। মণ্ডলীর কাজে তারা অনেক অধিকার ভোগ করতেন। খাজনা আদায়কারী এবং রায়তদের মধ্যে মধ্যস্ততা কিংবা গ্রামীণ বিপদ আপদ মিমাংসা করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে মণ্ডলেরা।
আকন্দ/আখন্দ
আপনার পদবীর ইতিহাসও আপনার জানা উচিত বলে মনে করছি- আকন্দ/আখন্দ বলে মৌলিক কোন পদবী আমি খুজে পাই নাই। এটা সম্ভবত খন্দকার পদবীরই রূপভেদ। খন্দকারই সম্ভবত আখন্দ/আকন্দ বা আকন  হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আবার ফার্সি আখুন্দ থেকেও আখন্দ পদবী আসতে পারে। তবে আকন্দ শব্দ আখন্দ থেকেই এসেছে এটা নিশ্চিত। মুসলিম সমাজে শিক্ষক হিসাবে খোন্দকার বা খন্দকারের পরিচয় পাওয়া যায়। তবে খন্দকার পদবী হিসেবে মূলত এসেছে সামন্ত সমাজ থেকে পেশাজীবী হিসাবে। সাধারণভাবে খন্দকার অর্থ হচ্ছে কৃষক বা চাষাবাদকারী। ভিন্নমতে খন্দকারের মূল উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ কন্দ/খন্দ থেকে যার অর্থ ফসল বলা হয়েছে। এই খন্দ এর সাথে কার যুক্ত হয়েই সম্ভবত খন্দকার হয়েছে। ফলে উভয় অর্থেই খন্দকার/আখন্দ/আকন্দ বলতে কৃষক বা চাষাবাদকারীকেই বুঝায়।
সম্মানিত উপজেলা চেয়ারম্যান- মুসলমান সমাজের পদবী সম্বন্ধে যে আপনি কত কম জানেন তার শোচনীয় প্রমান আপানর এসব মন্তব্যের মধ্যেই পাওয়া যায়!!!!!! আমার বিশ্বাস অন্যের পদবী নিয়ে বয়ান করার আগে এখন থেকে নিজের পদবী নিয়েও ভাববেন। কেন বোঝেন না এই সব বংশ-পদবী- সম্পদ- ক্ষমতা একেবারেই মিথ্যা। নিত্ত পরিবর্তনশীল সমাজে এগুলো কারও স্থায়ী পরিচয় নয়। মনে রাখবেন সবচেয়ে বড় সত্য হল মানুষ। মানুষের চেয়ে বড় কোন সত্য নাই। দল- মত -পদবি- সবই এসেছে মানুষের প্রয়োজনে। নিজেকে আশরাফ আর অপরকে আতরাফ ভাবাটা প্রচণ্ড রকমের ধৃষ্টতা!! নিজের প্রকৃত বংশ পরিচয় জানুন- কোথা থেকে এসেছেন সেটাও জানুন- দেখবেন কোন পার্থক্য খুজে পাবেন না –পার্থক্য যেটা আছে সেটা শুধুই সময়ের।

  • আপনি বলেছেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যারা জাসদ গনবাহিনীর নামে (কমেন্টে লিখেছেন-জাসদ গণবাহিনীকে দমন করতে গিয়ে) ডাকাতি, খুন, রাহাজানি রেছে এবং তাদের দমনের নামে বিখ্যাত রিবার (বিশ্বাস সাহেবের কাছে, রাজাপুরের মানুষের কাছে নয়) সাধারন মানুষের ওপর ব্যাপক নির্যাতন করায় সাধারন মানুষ ঘৃনাভরে পঁচাত্তর পরবর্তী সময় থেকে তাদের প্রত্যাখান রে  লেছে।
সম্মানিত উপজেলা চেয়ারম্যান এটা কার কণ্ঠস্বর !! আমি বিস্মিত!!! আওয়ামী মুখশের আড়ালে এটা কার প্রেতাত্মা!!! এটাই তো জীবনভরে বলে আসছে স্বাধীনতা বিরোধীরা- এটা বলেই তো বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে সমর্থন করেছে খুনিরা। যে কথা প্রতিনিয়ত ইনিয়ে বিনিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীরা বলে যাচ্ছে সেই কথাই অবলীলায় বলে গেলেন আপনি!!!!!! আপনার কুৎসার জবাব দেবার আগে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের অবস্থাটা আপনাকে ব্যখ্যা করা খুবই প্রয়োজন। আপনার আওয়ামী রাজনীতির বয়স এখনও পাকে নাই সেটা জানতাম- তাই বলে এতটাই অপরিপক্ক!!!! এটা না জানলে কিভাবে চলবে???? এটা তো ফান্ডামেনটালস!!!! ১৯৭২থেকে ১৯৭৫ সময়কালে বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকাংশরই সংসদীয় গনতন্ত্রে বিশ্বাস ছিল না। জাসদ, ন্যাপ (ভাসানী), বাংলাদেশের কম্যুনিস্ট পার্টি (লেনিনবাদী), বাংলার কম্যুনিস্ট পার্টি, শ্রমিক- কৃষক সাম্যবাদী দল প্রভৃতি প্রকাশ্যে বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কৌশল হিসাবে তারা সহিংস আন্দলনের পন্থা অনুসরণ করে। অনেক  আত্মগোপনকারী উগ্রবাদী বাম- গোষ্ঠী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে শাসক দলকে ক্ষমতা চ্যুত করার কৌশল হিসাবে হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। দেশে এক ভয়াবহ অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়। চার জন সংসদ সদস্য সহ বহু রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়। পুলিশ ফাঁড়ি, হাট-বাজার, ব্যাংক আগ্নেয়াস্ত্র লুট নিত্ত নৈমিত্তিক ব্যপার হয়ে দাঁড়ায়। প্রকাশ্যে বিরোধী দলগুলো সংসদ বহির্ভূত সহিংস আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পরে এবং জাসদ গোপনে সশস্ত্র গন বাহিনী গড়ে তোলে। ১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে গঠিত সর্বদলীয় যুক্তফ্রন্ট আওয়ামী সরকারকে উৎখাত করার কর্মসূচী গ্রহন করে। ডানপন্থী দলগুলো মুসলিম বাংলা আন্দোলন পরিচালনা করে এবং তাদের অনেকে সহিংস কার্যকলাপে অংশ নেয়। দেশে তখন চরম নৈরাজ্য দেখা দেয়। সন্ত্রাসবাদীরা কুকুর বেড়ালের মত মানুষ হত্যা করতে থাকে। এমতবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের নির্দেশে তার সংগঠনের অনুসারীরা দৃঢ় হাতে সেই সব সন্ত্রাসীদের দমন করেছিল। জনাব মোহাম্মাদ আলী আকন্দ- আপনি আসলে কার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে চেয়েছেন!!!! আপনার অভিযোগ কিন্তু সাংঘাতিক!!! কারণ স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচরেরা তার নির্দেশেই এইসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করেছিলেন। আপনি বলেছেন- জাসদের গণবাহিনী ডাকাতি, খুন, রাহাজানি করেছে আর সেটা বন্ধ করার জন্য তালুকদার পরিবার তাদের দমনের নামে মানুষের উপর নির্যাতন করেছে। আপনি সম্পূর্ণ নোংরা উদ্দেশ্যে এখানে সাধারন মানুষকে টেনে এনেছেন। আমি নিশ্চিত জানি এই সব সন্ত্রাসীরা প্রত্যেকেই সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজে নৈরাজ্য তৈরি করতে চেয়েছিল। যেটা বর্তমান সময়ে এসেও স্বাধীনতা বিরোধীরা করেছে আর আপনাদেরকে সেটা প্রতিহত করতে হয়েছে। যার ফিরিস্তি আপনি কথায় কথায় দিয়ে থাকেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় নির্বাচনের ঠিক অন্তিম মুহূর্তে এসে এমন একটা স্পর্শ কাতর বিষয়কে আপনি জনসম্মুখে নিয়ে এসেছেন। তালুকদার পরিবারের সমস্ত কিছু জেনেই বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আব্দুল মমিন তালুকদারকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। চেয়ারম্যান সাহেব- আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না বঙ্গবন্ধুর কতটা নির্ভরযোগ্য আর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন আব্দুল মমিন তালুকদার। শুধু রাজাপুর ইউনিয়ন কেন সমস্ত সিরাজগঞ্জের মানুষ সেটা দেখেছে। মমিন তালুকদারের কথায় বঙ্গবন্ধু সিরাজগঞ্জের মাটিতে এসেছেন। তার বাসায় আতিথেয়তা গ্রহন করেছেন। আপনি অবাক হয়ে যাবেন- এই রাজাপুরের মাছ- ভাত- আর ডাল খেয়ে তিনি প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। দেশ মাতার জন্য জীবন বাজী রাখতে গিয়ে তালুকদার সাহেব অনেক সময় তার পরিবারকে বঞ্চিত করেছেন সেটা জেনে বঙ্গবন্ধু বিদায় বেলায় তার পরিবারকে সান্তনা দিয়েছেন। সেই মমিন তালুকদারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আপনি প্রশ্ন তুলেছেন? মমিন তালুকদার বা তার পরিবার আপনার মত গুটি কয়েক ব্যক্তিবর্গের কাছে ঘৃণার পাত্র হতে পারে তবে সাধারন মানুষের কাছে কখনই নয়। বিছিন্ন ভাবে তালুকদার পরিবারের কেউ কেউ অন্যায় করে থাকতে পারে তবে তার জন্য একটা পরিবারের সমস্ত অবদানকে মানুষ ভুলে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। অসংখ্য বয়ান আমি করতে পারি কিন্তু সেটা হয়তো অহমিকা হবে। তাই শুধু দুই একটা কথা আপনাকে জানাতে চাই। কত অসংখ্য স্কুল-মাদ্রাসা-মক্তব তালুকদারদের ব্যক্তিগত অর্থ-সম্পত্তি ব্যায়ে গড়ে উঠেছিল সেটার ইতিহাস কি জানা আছে আপনার? এমনকি আপনি যে স্কুলে (রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়) পড়াশুনা করেছেন সেটাও কিন্তু কোন সরকারি অনুদানে গড়ে ওঠে নাই- সেটা একান্তই তালুকদারদের ব্যক্তিগত অর্থ-সম্পত্তির উপর ভর করে গড়ে উঠেছিল। শুধু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেই দায়িত্ব ছেড়ে দেন নাই । নিজে হাতে শিক্ষার্থীদের শেখানোর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। যারই ফলশ্রুতিতে অনেকেই পরবর্তীতে নিজেদেরকে সমাজের বিভিন্ন সম্মানজনক পদে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। একবার শুধু ভেবে দেখুন মাধ্যমিক- উচ্চ মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া দেশের সর্বচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন তুখোড় ছাত্র সুযোগ পেলেই ছুটে এসে সমাজের পিছিয়ে পড়া অবহেলিত যুবকদের এগিয়ে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। আপনি কি জানেন যে তালুকদারদের সিরাজগঞ্জের বাসা (সিরাজগঞ্জ শহরের প্রথম ডুপ্লেক্স বাসা) ছিল একটা সত্যিকারের লঙ্গরখানা- যেখানে এসে মাথা গোঁজার ঠাই হত অসংখ্য ছাত্র যুবাদের। শিক্ষা ক্ষেত্রে এমন অবদান রাখা রাজপুর ইউনিয়নে দ্বিতীয় আর একটি পরিবারকে দেখাতে পারবেন? রাজাপুরের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা ভাগ্য উন্নয়নেও তিনি অসাধারন ভূমিকা রেখেছিলেন- তারই স্বীকৃতি স্বরূপ মানুষ তাকে ভালবেসে সোনার নৌকায় মুড়িয়ে দিয়েছিল। কারিগর সম্প্রদায়ের বাবসা বাণিজ্যের উন্নয়ন ও প্রসারে তিনি যে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন সেটা তারা আজও কৃতজ্ঞতা ভরে স্মরণ করে। রাজাপুর ইউনিয়নের হাটের মানুষ- ঘাটের মানুষ- মাঠের মানুষ এই সমাজের মহাত্মা হিসাবে চিরদিন তাকে স্মরণ করবে। দিনের পর দিন যাবে জনগনের অন্তরলালিত এই শ্রদ্ধা ঘনিভুত হয়ে নিকষিত সোনার রুপ ধারন করবে। কেউ ঠেকাতে পারবে না।

  • আপনি প্রমান হিসাবে বলেছেন তালুকদার রিবারের প্রাণ পুরুষ জনাব আব্দুল মিন তালুকদার কোনদিন কোন নির্বাচনে জিততে পারেননি। ১৯৯১ সালে উনি রাজাপুর ইউনিয়নে ( নিজের ইউনিয়ন ) তৃতীয় য়েছিলেন এবং লজ্জার কথা রাজাপুর ইউনিয়নে জামাতের কোন সংগঠন না থাকার পরওদ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াত প্রার্থী নবাগত আলী আলমের চেয়েও নেক কম ভোট পান। পঁচাত্তর পরবর্তীতে রিবারের কেউ ক্রিয় ছিলেন না আওয়ামীলীগে এবং বংশ থেকে মেম্বর পর্যন্ত নির্বাচিত তে পারেন নাই অদ্যাবধি।
সম্মানিত উপজেলা চেয়ারম্যান- আমি বিস্মিত- মর্মাহত!!! আপনি কি সত্যি জানতেন না- নাকি জেনেও মিথ্যাচার করেছেন। তাই বলে এত বড় মিথ্যাচার!! তবে কি তিনি বিনা নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন? কোন যোগ্যতায় তিনি সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহব্বায়ক হয়েছিলেন??? যে ভাষায় আজকে আপনি গলাবাজি করছেন সেই ভাষা আন্দোলন কাদের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিলো? কাদের নেতৃত্বে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের মত মহান শহীদেরা জীবন উৎসর্গ করেছিল?? ১৯৫৪ সালের ৪ এপ্রিল পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগের তৃতীয় সম্মেলনে তিনি ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের যে কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয় তিনি সেই কমিটিরও একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। আপনি কি সত্যি জানতেন না যে ১৯৭০ এর জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে জনগন আব্দুল মমিন তালুকদারকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছিলেন আর সেই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিলো। দয়া করে জানাবেন কি সেই নির্বাচনে জামাত বা মুসলিম লিগ কতো ভোট পেয়েছিলো? আমার বিশ্বাস এর উত্তর আপনি ছাড়া আর কারও কাছে পাওয়া যাবে না? কারন আওয়ামীলীগের কর্মীরা তখন জামায়াতিদের খবর রাখাটাও পাপ বলে মনে করত। এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই বাংলার মানুষ পাকিস্তানী শাসক তথা জালিমদের প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি আরও বেশী মজবুত হয়েছিলো। জেনে রাখা ভাল আব্দুল মমিন তালুকদার মুক্তি বাহিনীর ট্রেনিং ক্যাম্পে মটিভেশান অফিসার হিসাবে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন এবং মুজিব নগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য দেশে দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। আপনি জানেন না যে ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জনগন আব্দুল মমিন তালুকদারকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিলেন। দয়া করে বলবেন কি তাকে মনোনয়ন দিয়ে বঙ্গবন্ধু ভুল করেছিলেন নাকি তাকে ভোট দিয়ে জনগন ভুল করেছিলেন??? উত্তর দিতে পারেন কোন বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু তাকে তার নাতিদীর্ঘ মন্ত্রীসভার স্থান দিয়েছিলেন???? কোন যোগ্যতার বলে তাকে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন??? জনাব মোহাম্মাদ আলী আকন্দ- আপনি কি ১৯৯১ সালের নির্বাচনের ইতিহাস জানেন?? কি হয়েছিলো সেই নির্বাচনে? আপনার জানার কথাও না। আওয়ামীলীগের ইতিহাস জেনে আপনি কি করবেন? সেই নির্বাচন অবশ্যই জাতির কাছে প্রশ্ন বিদ্ধ হয়েছিলো। শ্রদ্ধেয় মোতাহার হসেন তালুকদার সিরাজগঞ্জ সদর আসনে হেরে গিয়েছিলেন। শ্রদ্ধেয় মাজাহারুল ইসলাম শাহাজাদপুরে হেরেছিলেন। সবচেয়ে করুন ইতিহাস সেই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকেও তিন আসনে নির্বাচন করে দুই আসনে হারতে হয়েছিলো? বলতে পারেন কেন  হয়েছিলো সেটা? জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২২০ টি আসনে কেন আওয়ামীলীগের প্রার্থীদেরকে হারতে হয়েছিলো? জনাব মোহাম্মাদ আলী আকন্দ আপনি বলেছেন- আব্দুল মমিন তালুকদার রাজাপুর ইউনিয়নে তৃতীয় হয়েছিলো এবং জামায়াতের কোন সংগঠন না থাকার পরও দ্বিতীয় স্থানে থাকা নবাগত আলী আলম সাহেবের থেকেও অনেক কম ভোট পেয়ে হেরে গিয়েছিলেন?? আমি এই মিথ্যাচারের তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি- ধিক্কার দিচ্ছি এবং বেলকুচি আওয়ামীলীগের সকল নেত্রীবৃন্দকে এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নেবার অনুরোধ জানাচ্ছি। আব্দুল মমিন তালুকদার ১৯৯১ সালের নির্বাচনে রাজাপুর ইউনিয়নে…প্রথম হয়েছিলেন…প্রথম হয়েছিলেন এবং প্রথম হয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে মুসলিম লিগের ক্যান্ডিডেট মতিন সাহেব কে অনেকে চিনলেও অধিকাংশ মানুষই আলী আলম সাহেবকে চিনতেন না। চেয়ারম্যান সাহেব- আপনার কাছে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করছি কোথায় জামায়াতের সংগঠন ছিল আর কোথায় ছিল না এসব খবর আপনি কিভাবে জানতেন!!!!!!!!!!!লজ্জা-ভিশন লজ্জা পাচ্ছি!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

  • মোহাম্মাদ আলী আকন্দ আপনি বলেছেন-পঁচাত্তর পরিবর্তী সময়ে তালুকদার পরিবারের কেউ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না
দয়া করে বলবেন কি কারা সক্রিয় ছিল পঁচাত্তরের পর? অধিকাংশ আওয়ামী পরিবারের মুখেই তো সামরিক সরকার টেপ মেরে রেখেছিল। আওয়ামীলীগের নাম উচ্চারণ করাও প্রায় নিষিদ্ধ ছিল। তবে কি শুধু আপনার পরিবারই সক্রিয় ছিল? বিশ্বাস করুন চেয়ারম্যান সাহেব- আপনার এই অভিযোগের উত্তর যখন লিখছি হৃদয়ে কেবলই রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অপ্রকাশিত ঘটনাবলি নাই বা বললাম যেটা মানুষ জানে সেটাই শুধু বলছি। জাতীয় চার নেতাকে যেখানে রাখা হয়েছিলো তার পাশের সেলেই রাখা হয়েছিলো তাকে। নেহায়েতই ভাগ্যের জোড়ে বেঁচে জান তিনি। সামরিক সরকার তাকে জেলখানায় রেখে অমানবিক নির্যাতন করে। কিছুদিনের জন্য বের হলেও আবার ১৯৭৬ সালের ২৯ শে নভেম্বার তাকে জেলে ঢুকানো হয়। এবার নির্যাতন করে তার হাত –পা ভেঙ্গে দেয়া হয়।  অনেকেই তার শরীরের সেই ক্ষতর কথা জানতেন। জেল থেকে বের হবার পর বেশ কয়েক মাস তিনি অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় কাটাতে হয়। জোহরা তাজউদ্দীনকে সভাপতি করে আওয়ামীলীগের যে আহবায়ক কমিটি করা হয় জেলে থাকার দরুন সেই কমিটিতে তিনি ছিলেন না। পরবর্তীতে আব্দুল মালেক উকিলকে সভাপতি করে ১৯৭৮ সালে যে কমিটি করা হয় সেখানে তিনি সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান। বিধ্বস্ত আওয়ামীলীগকে পুনর্গঠিত করতে যারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন আব্দুল মমিন তালুকদার তাদের মধ্যে অন্যতম। কীভাবে বোঝাবো কতো অত্যাচার- কতো নির্যাতন- কতো নিপীড়ন তার পরিবারের উপর করেছ সেই সামরিক সরকার। জননেত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে যারা অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যেও তিনি ছিলেন অন্যতম। প্রেসিডিয়াম এর বিধান সংক্রান্ত গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব তিনিই কাউনসিলে উত্থাপন করেন। যেটা আওয়ামীলীগের কাউনসিলে সর্ব সম্মত ভাবে গৃহীত হয়।  ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে প্রেসিডেন্ট করে যে কমিটি গঠন করা হয় তিনি ছিলেন সেই কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য (১৯৮১ সালের প্রেসিডিয়ামঃ মালেক উকিল, জোহরা তাজউদ্দীন, সাজেদা চৌধুরী, ডঃ কামাল হসাইন ,আব্দুল মমিন তালুকদার, আব্দুল মান্নান, কোরবান আলী, জিল্লুর রহমান, আব্দুস সামাদ আজাদ, মহিউদ্দিন আহমেদ, ফনি ভূষণ মজুমদার)। আমৃত্যু তিনি আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। তার মাধ্যমেই আব্দুল গাফফার চৌধুরী,জহির রায়হান সহ অনেক বিজ্ঞ নেতৃবৃন্দ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়। পঁচাত্তর পরবর্তী আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যিনি এমন অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তাকে এবং তার পরিবারকেই আপনি বলছেন নিষ্ক্রিয়!!!!!!!!!!!!!!!!!!
  • আপনি বলেছেন , রাজাপুরে এসে যে রিবার নিয়ে গর্ববোধ রেন, যে নেতাকে নিয়ে গর্ববোধ করেন তাদের পারিবারিক নির্মমতার কারনে রাজাপুর ইউনিয়নের মানুষ তাদের বর্জন রেআওয়ামীলীগ থেকে রে গিয়েছিল। কিছু মুজিবভক্ত নিবেদিত প্রাণ নেতা কর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় আবার  আওয়ামীলীগ  সংগঠিত হয় এবং মজবুত ভিত তৈরী রে। বিভিন্ন সভায় বারবার রিবারের লোকজনের কথা বলায় যারা নিরলসভাবে চেষ্টা করে রাজাপুরকে আওয়ামীলীগ এর ঘাটিতে রিনত রেছেন তারা কষ্ট পান, মনক্ষুন্ন হন।
চেয়ারম্যান সাহেব- আপনার আস্পর্ধা দেখে বিস্মিত হতে হতে বিস্মিত হবার ভাষাও হারিয়ে ফেলছি। যে নেতাকে নিয়ে গর্ববোধ করেন বলেছেন...কোন নেতাকে নিয়ে গর্ববোধ করে সেটা জানেন না আপনি ?? বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তাকে নিয়ে গর্ব করে। বেলকুচি আওয়ামীলীগের প্রতিটি নেতা কর্মী তাকে নিয়ে গর্ব করে। সত্যিকারের আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা কখনই আওয়ামীলীগ বর্জন করে নাই। যারা ব্যাবসা করার জন্য এসেছিল তারাই কেবল ব্যাবসা শেষে ফিরে গেছে। ভবিষ্যতেও অনেক ব্যবসায়ী ছেড়ে যাবে তার আলামতও দৃশ্যমান। বাণিজ্য অনেক হয়েছে- মুনাফার ভারে ভেঙ্গে পড়া শরীর মানুষ আর দেখতে চায় না। এটা খুবই সত্য যে মুজিব ভক্ত নিবেদিতপ্রান নেতা কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় আওয়ামীলীগ সংগঠিত হয়েছে। মুজিব ভক্তির নির্ভেজাল প্রমান তালুকদারদের চেয়ে বেশী অন্য কোন পরিবার আজও দিতে পারে নাই। রাজাপুরের মাটিতে মমিন তালুকদারের প্রশংসা করলে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা মনঃক্ষুণ্ণ হন- কষ্ট পান এই বক্তব্যের পর আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা ঘৃণায় আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এই বক্তব্য কোন আওয়ামীলীগ নেতার বক্তব্য হতে পারে না। রাজপুর ইউনিয়নের কোন নেতা কর্মী মমিন তালুকদারের প্রশংসায় মনঃক্ষুণ্ণ হতে পারে না- কষ্ট পেতে পারে না। মমিন তালুকদারের জীবদ্দশায় বেলকুচির রাজনীতিতে বিভাজন একেবারেই ছিলনা সেটা বলছিনা। তবে আওয়ামী- বাকশালের সেই দ্বন্দ্ব খুবই ক্ষণস্থায়ী। শ্রদ্ধেয় আব্দুস সোবাহান খান আমৃত্যু তাকে মর্যাদা দিয়েছেন। তার পরিবারের সাথে নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ থেকেছেন। সাইদুর স্যার ,আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, আব্দুর রহমান পিপি, ইউসুফজি খান, ফজলু সরকার, আব্দুল হামিদ কমান্ডার, সন্তোষ প্রামানিক, কার্ত্তিক সাহা, রশিদ মাস্টার, শাহজাহান মাস্টার, হেলাল সরকার সহ সমস্ত বিজ্ঞ নেতৃবৃন্দ তাকে সম্মান করেছেন -তার পরিবারকে সম্মান করেছে। এই প্রথম কোন আওয়ামী নেতা (???????) তাকে অসম্মান করার মত ধৃষ্টতা দেখিয়েছে? আওয়ামীলীগের মানুষ এর বিচার বেলকুচির মাটিতেই করবে ইনশাআল্লাহ!!!
  • আপনি বলেছেন তালুকদার পরিবার এখন শুধু নামেই তালপুকুর কিন্তু ঘটি ডোবেনা। চরের মানুষ আপনার প্রিয়ভাজন ছেলেটির নামে থুথু ফেলে। সমেশপুর আর রাজাপুর গ্রাম বাদ দিয়ে নেতৃত্ব তৈরী করলে সে নেতৃত্ব বালির বাঁধের মত ধ্বসে যাবে।
চেয়ারম্যান সাহেব- বলতে পারতাম অতিকায় হস্তি লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা আজও টিকিয়া আছে। বলতে পারতাম –ব্রিটিশ সূর্য অস্তমিত গিয়েছে কিন্তু তার উত্তাপ আজও ছড়িয়ে আছে । কিন্তু বলব না কারন মিথ্যা অহমিকায় ডুবে থাকার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই। তেমনি বাস্তবতা স্বীকার করার মধ্যেও কোন লজ্জা নেই। এটাই সমাজের নিয়ম। নিত্ত পরিবর্তনশীল সমাজে অর্থ- বিত্ত- ক্ষমতা কখনই এক হাতে থাকে নাই। আপনারও হাতেও শেষ পর্যন্ত থাকবে না। দ্রুতই তা বদল হয়ে অন্য হাতে চলে যাবে। তালপুকুর হোক আর হাজমাজা পুকুরই হোক একটা জিনিষ এখনও জানবেন- তালুকদারদের এই প্রজন্মের অনেকেও ব্যক্তিগত মহিমায় সমাজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আসনে বসার যোগ্যতা রাখে। শওকত বয়সে তরুন- তালুকদার পরিবারের অতি নগণ্য একজন সদস্য –ওর ভারেই এমন দিশেহারা হয়ে গেলেন। চরের মানুষ কাকে থুতু দেয় সেটা সময়ই বলে দেবে!!!!!! সমেশপুর আর রাজাপুর গ্রাম বাদ দিয়ে নেতৃত্ব তৈরী করলে সে নেতৃত্ব বালির বাঁধের মত ধ্বসে যাবে -আমি অত্যন্ত ঘৃণা ভরে আপনার এই বক্তব্যের নিন্দা জানাচ্ছি। এটা বিশুদ্ধ গোত্রবাদ!! বোধ করি বর্ণবাদও!!!!! এই আধুনিক গণতান্ত্রিক যুগে এটা কুৎসিত সামন্তবাদ!!! এটাই কি আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা!!! আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি সমেশপুর- রাজাপুরের সাধারন মানুষ কখনই আপনার মত করে ভাবেনা- ভাবতে পারে না। চেয়ারম্যান সাহেব মনে রাখবেন- যে মানুষ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করার সময় অতীত থেকে শিক্ষা নেয় না তার পরিকল্পনা করার মত ভবিষ্যৎ নাও থাকতে পারে। দয়া করে বলবেন কি আব্দুল মমিন তালুকদার, আব্দুস সোবাহান খান, সাইদুর মাস্টার , জালাল উদ্দিন তালুকদার, আব্দুর রহমান পিপি, ইউসুফজি খান, ফজলু সরকার, সন্তোষ প্রামানিক, কার্ত্তিক সাহা, শাহজাহান মাস্টার, রশিদ মাস্টার, হেলাল সরকার, আব্দুর রশিদ আকন্দ, মীর ম।শাররফ হোসেন , আব্দুল হামিদ কমান্ডার, সৈয়দ মেম্বার, শফি খান সহ অগনিত নেতৃবৃন্দ কি শুধু সমেশপুর আর রাজাপুর থেকেই তৈরি হয়েছিলো??? তারা কি বালির বাঁধের মত আওয়ামীলীগকে ভাসিয়ে দিয়েছিল ?? রাজাপুর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের বিজ্ঞ নেতৃবৃন্দ মিলেই আজ আওয়ামীলীগকে এখানে এনে দাড় করিয়েছে। আপনার আগেও সমেশপুরে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ছিল। তারা কখনই এমন ধৃষ্টতা দেখায় নাই??? জানি আপনি অত্যন্ত বুঝে শুনে দায়িত্ব নিয়েই কথাটা বলেছেন। শুধু যে বলেছেন এমন নয় সেই অনুযায়ী কাজ করেও দেখিয়েছেন । কিন্তু রাজাপুর ইউনিয়নের মানুষ এই স্বেচ্ছাচারিতা সমন্ধে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। মোহাম্মাদ আলী আকন্দ- দেহের সমস্ত রক্ত  যদি মাথায় এসে প্রবাহিত হয় সেটাকে স্বাস্থ্য বলে না- উচ্চ রক্ত চাপ বলে। তেমনি রাজাপুর ইউনিয়নের সমস্ত উন্নয়ন যদি শুধু সমেশপুরে হয় সেটাকেও ইউনিয়নের উন্নয়ন বলা যাবে না। চেয়ারম্যান সাহেব- প্রচণ্ড রকমের উচ্চ রক্ত চাপে ভুগছে আব্দুল মমিন তালুকদার আর আব্দুস  সোবাহান খানের এই ইউনিয়ন!!!!!!
  • আপনি বলেছেন- জেলা সভাপতি ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন না রে ২০১২ সালে ইউনিয়ন ম্মেলনে সকল নেতাকর্মীর মতামত উপেক্ষা রে রিবার থেকে লের সাধারন সম্পাদক বানান আর সভাপতি বানান এমন এক মহান ব্যাক্তিকে যে ব্যক্তি মেশপুর গ্রামের মসজিদ, মাদ্রাসার টাকা আত্মসাৎ রেছে দীর্ঘ বিশ বছর যাবত। অবশেষে   মেশপুর হাইস্কুলে নৈক মরহুম আহসান  ডাক্তারের তিন কন্যার দান করা বাজার সংলগ্ন দামী নের শতক মি নিজের নামে লিখে নেন। ২০১২ সালের ইউপি নির্বাচনে যিনি নিজ গ্রামে হেরে যান ৭০০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন দল ক্ষমতায় থাকার পরও, ক্ষমতাসীন মন্ত্রী জনাব তিফ বিশ্বাসের ব্যাপক সমর্থন থাকার পরও। কারন সীমাহীন দুর্নিতী, একরোখা আত্ম অহংকারী হওয়ার কারনে কেউ তাকে পছন্দ রেনা। এমন কি নিজ ভাই ভাতিজা, স্ত্রীর সাথে উনি কথা লেনা বছরের পর বছর।
মমিন তালুকদারের পরিবারের সদস্যরা ত্যগী কি ত্যগী না সেটার পুনরাবৃত্তি আর করব না। আপনার পরিবার থেকে যাকে ইউনিয়ন সভাপতি করা হয়েছে তার কথা বলছি।  যিনি ২০১২ সালের নির্বাচনে হেরে যান। সেই নির্বাচনে তালুকদার পরিবার সহ আওয়ামীলীগের সমস্ত নেতা কর্মী নিরলস পরিশ্রম করেছিলেন। তবে ইতিহাস সাক্ষী আপনি সেই নির্বাচনে রহস্যময়য় ভাবে নিশ্চুপ ছিলেন। আওয়ামীলীগের সবাই জানে সেই নির্বাচনে আপনি নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে বশে ছিলেন। আপনার মত যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে পারে নাই বলেই আপনি নিজ দায়িত্ব ভুলে ঘরে বসে ছিলেন? আমরা শুনেছি গোলাম চেয়ারম্যান সাহেব (আপানর ভাই) তার জমি জমা বিক্রি করে অনেকটা সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছিলেন। আব্দুল লতিফ বিশ্বাস আওয়ামীলীগ নেত্রীবৃন্দের অনুরোধে নৈতিক দায়বোধ থেকে নির্বাচনে ক্ষতি হওয়া একজন সৎ, নিষ্ঠাবান মানুষকে আওয়ামীলীগের দায়িত্ব দিয়েছিলেন । ধন্যবাদ আপনাকে আপনার পরিবারের এহেনও পাপ কর্মের ফিরিস্তি দেয়ার জন্য??? কিন্তু অপরাধটা অত্যন্ত মারাত্মক!!!!! তাই বলে মসজিদ- মাদ্রাসার টাকা!!! কেন জানি বিশ্বাস হয় না??? বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়া একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি- যাকে মানুষ সৎ এবং নিষ্ঠাবান একজন চেয়ারম্যান হিসেবেই জানত। সেই মানুষটা কীভাবে এমন জঘন্য কাজ করতে পারে?? সমেশপুরের বিজ্ঞ নেতৃবৃন্দ যারা বিগত নির্বাচনে গোলাম চেয়ারম্যানের সততা ও নিষ্ঠার দোহাই দিয়ে মানুষের কাছে ভোট চেয়েছিলেন তারা এসে আমাদের আত্মাকে শান্ত করুন । শ্রদ্ধেয় শফি ভাই শিক্ষা জীবনে আমরা আপনাকে আমাদের আদর্শ জেনে বড় হয়েছি- সেই আপনি যখন বিগত নির্বাচনে আমাদের কাছে এসে গোলাম চেয়ারম্যান সাহেবের জন্য ভোট চেয়েছিলেন আমরা সেটাকে অন্য মাত্রা দিয়ে গ্রহন করেছিলাম। বিশ্বাস করি সমাজের একজন সত্যিকারের আদর্শ হিসাবে আপনি আমাদের সঠিক বার্তাই দিয়েছিলেন। অপেক্ষায় রইলাম গোলাম চেয়ারম্যান পরিবারের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কর্মীদের চিত্তক্ষরণ বন্ধ হওয়ার জন্য অত্যন্ত বিতর্কিত এই ব্যপারটার সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।  

  • আপনি বলেছেন আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ঊপজেলা ম্মেলনে কাউন্সিলরদের মতামত উপেক্ষা রে ভোট না দিয়ে কেট মিটি করলেন। ঢাল লোয়ারহীন দুই নিধিরাম কে সভাপতি সেক্রেটারী বানালেন ওনার আজ্ঞাবহ হয়ে থাকবেন লে। যারা প্রস্রাব করার আগে রে ওনার অনুমতি নিয়ে কাজটা রে। নইলে চাকরী নট। ইউপি নির্বাচনে জেলা ব্যাপী নোনয়ন বানিজ্য করলেন, প্রশাসন ম্যানেজের বানিজ্য করলেন। ব্যক্তিগত খামখেয়ালী সর্বত্র প্রয়োগ রে উনি বেলকুচি উপজেলা অাওয়ামীলীগকে ধ্বং রে দিলেন।
এটা বিশুদ্ধ প্রতিহিংসা!!!এই কমিটির আপনিও একজন সম্পাদক। এত দিন পরে এসে কোন হীন উদ্দেশ্যে এসব নিয়ে কথা বলছেন? উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সেক্রেটারি উভয়েই দীর্ঘদিনের পরিক্ষিত সৈনিক। ব্যক্তিত্তের দুর্বলতা তাদের থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু বেলকুচি আওয়ামীলীগের ইতিহাসে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। কোন আস্পর্ধায় থানা আওয়ামীলীগের সর্বচ্চ পর্যায়ের দুইজন বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাকে নিয়ে এমন কুৎসিত মন্তব্য করলেন?আপনার এই বক্তব্যের তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জনাব মোহাম্মাদ আলী আকন্দ আপনি বলেছেন ইউপি নির্বাচনে জেলা ব্যপী মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে- প্রশাসন ম্যানেজার বাণিজ্য হয়েছে- কি বলতে চাইছেন আপনি?? এটা কাদের সুর?? আওয়ামী মুখোশের আড়ালে এটা কার প্রেতাত্মা?? এটাই কি বিরোধীরা ক্রমাগত বলে আসছে না?? তবে আপনি কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছেন?? দোহাই এত তাড়াতাড়ি বাণিজ্য গুটিয়ে নেবেন না!! আওয়ামীলীগ আপনাকে অনেক দিয়েছে। তার ঋণ শোধ না করে ফিরে যাবেন না। আপনি কি বুঝতে পেরেছেন আপনার এই বক্তব্যে  জেলা আওয়ামীলীগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে !!! জেলার সকল সংসদ সদস্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে!! প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে নির্বাচিত প্রতিটি ইউপি চেয়ারম্যান!! আপনি প্রশাসনকে পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন!!!!জাতীয় নির্বাচনের অন্তিম মুহূর্তে এসে আপনি আসলে কাদের এজেনডা বাস্তবায়ন করছেন???? আওয়ামীলীগ কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রত্যেকটা ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে- প্রশাসন ম্যানেজ করে নির্বাচনে জিতেছে বলে আপনি তাদের সমস্ত পরিশ্রমকে কালিমাদীপ্ত করেছেন।আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা আপনার এই বক্তব্য ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করছে। দোহাই আপনার বন্ধ করুন এসব নইলে আপনিই ভেসে যাবেন বালুর বাঁধের মত!!!!!!!!

  • এক নাটকীয় কে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জেলা রিষদ চেয়ারম্যান য়ে ক্ষমতার অপব্যবহার চরম আকারে শুরু করলেন। জেলার কোন সাংগঠনিক কাজ না রে বেলকুচিতে ইচ্ছেমত দল থেকে হিস্কার, ইচ্ছামত সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশের ব্যবস্থা করলেন।
জনাব মোহাম্মাদ আলী আকন্দ আপনি এবার সত্যি ধরা পরে গেছেন!!! মিথ্যা হোক আর সত্য হোক আপনার এই লেখার অভিযোগ গুলো খুব স্পষ্ট ছিল। শুধু এই জায়গাটায় এসে আর পারলেন না। দয়া করে বলবেন কি কোন নাটকীয় ছকে আব্দুল লতিফ বিশ্বাস জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হলেন?? আমি নিশ্চিত আপনি এই ছক আর মেলাতে পারবেন না। এটা বঙ্গবন্ধু কন্যার ছক। জেলা আওয়ামীলীগের সদস্যদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নই বঙ্গবন্ধু কন্যার এই রায়। দোহাই আপনার আপনি মা মাটিতে রাখুন!!!!!
  • বুড়া ভাম হামিদ কমান্ডারকে লাথি মেরে রিয়ে দিন যে কুমন্ত্রনা দিয়ে আপনাকে কর্মীদের নিকট  থেকে  বিচ্ছিন্ন রেছে।
এটা অত্যন্ত অশালীন বক্তব্য!!!!এই ভাষা ব্যবহারের জন্যও তিব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। উনি আপনার থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ। এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসুন। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নীতি কথা লিখলেই হবে না নিজের জীবনেও সেটা প্রয়োগ করে দেখাতে হবে। ভেবে দেখুন- আপনাকে যদি কেউ এমন ভাষায় গালমন্দ করে। সমস্ত দোষ ছাপিয়েও উনি একজন মুক্তিযোদ্ধা । জেলা আওয়ামীলীগের একজন সম্মানিত সদস্য। জনগনের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ওনাকে অসম্মান করার কোন যোগ্যতা আপনার নাই।    

সম্মানিত উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব পরিশেষে এটাই বলব সমস্ত কিছু মিটিয়ে দিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। যে সম্মানিত তাকে সম্মান করতে শিখুন। স্বার্থ নয় আদর্শের রাজনীতি করুন। সমাজের সৎ, আদর্শবান ও মেধাবি তরুন্দের রাজনীতিতে আসার সুযোগ করে দিন। আমরা অন্ধ চোখ দিয়ে কোন কিছু দেখি না বলেই স্বীকার করছি রাজাপুর আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আপনার অবদানও কম নয়। আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে আপনি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু সেটারও একটা মাপকাঠি আছে। বেলকুচি আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আব্দুল মমিন তালুকদারকে যদি একটা বই বলা হয় -আব্দুল লতিফ বিশ্বাস অবশ্যই সেই বই এর মূল অধ্যায়। আর আপনি?? সর্বচ্চ সেই অধ্যায়ের একটা প্যারাগ্রাফ মাত্র। এই বাস্তবতা মাথায় নিয়ে রাজনীতি করলেই ভাল করবেন। আপনার ভাল চাই বলেই কথাগুলো বলছি আপনাকে। লতিফ বিশ্বাস মনোনয়ন পেল কি পেল না সেটা বড় কথা নয়। সারা জীবন ধরে তিনি মনোনয়ন পাবেন না। তার জায়গায় অবশ্যই নতুন কেউ আসবেন। যিনি বেলকুচি আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের মনের ভাষা বুঝবেন- হৃদয়ের আকুতি বুঝবেন- নারীর স্পন্দন বুঝবেন। আগ্রজদের সম্মান আর অনুজদের স্নেও করবেন। সর্বোপরি মানুষকে ভালবাসবেন। বেলকুচি আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের অবদান কখনই অস্বীকার করা যাবে না। বেলকুচি আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা সারা জীবন তাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে। অসংখ্য দোষ হয়তো তার আছে- আছে নানা রকম দুর্বলতাও। তবুও সমস্ত কিছুকে ছাপিয়ে যেটা সবচেয়ে বড় হয়ে আছে সেটা হচ্ছে তার ভালবাসা। ভালবাসতে পারেন তিনি মানুষকে। চেয়ারম্যান সাহেব একটু ভেবে দেখুন ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নানা বিষয়ে আপনার সাথে মতানৈক্য হয়েছে- বাদানুবাদ হয়েছে। কখনও কখনও সামাজিক ইসুকে কেন্দ্র করে ঠাণ্ডা যুদ্ধও হয়েছে। তবে কখনই সেটা শালীনতার সীমা অতিক্রম করে নাই। আপনার প্রতি বিশ্বাস পরিবারের পক্ষপাতিত্ব দেখে অনেক সময় কষ্ট পেয়েছি তার পরও সেটাকে স্বাভাবিক বলেই মেনে নিয়েছি। কিন্তু সময়ের কঠিন বাস্তবটায় আপনাদের সেই সম্পর্ক যখন ভেঙ্গে গেল অনেককেই তখন উৎসাহিত হতে দেখেছি। কিন্তু আমাদের ভাল লাগে নাই ব্যাপারটাতে। তাই আপনাকে ফোনে করে কথা বলেছি। আপনার বাড়িতে গিয়ে আপনাকে সমবেদনা জানিয়েছি। আপনার সাথে যারা এমন অন্যায় আচরন করেছে তাদের সমালোচনা করেছি। আপনার হয়তো মনে আছে- আপনি বলেছিলেন-“ নেতা আমাকে যা ইচ্ছা তাই বলতে পারে তিনি অভিভাবক- তার হাত ধরেই আমি রাজনীতিতে এসেছি।“ বলেছিলেন- ভাবি বয়সে বড়  তার কথাও ভুলে যেতে পারি কিন্তু তাই বলে আমার থেকে অধস্তন- শিক্ষা, দীক্ষা, জ্ঞানে, বুদ্ধিতে, রুচিতে, অবস্থানে অনেক নিচের একটা বিকৃত ছেলের সহিংস আচরন…..”। সত্যি জঘন্য ছিল সেই আচরণ!!! কুৎসিত ছিল সেই ভাষা!!! কতো নোংরা ভাষায় আপনাকে আঘাত করা হয়েছিলো । তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এটার প্রতিবাদ করেছিল। আপনার ব্যথায় ব্যথিত অনেকের কাছেই তার স্ক্রিন শট আজও রয়ে গেছে। আপনি বলেছিলেন- আমার বিশ্বাস ছিল নেতা হয়তো আমাকে ডাকবেন । দুঃসময়ে আমার অবদান এত সহজে ভুলবেন না। সত্যি বলছি- আমারও তাই মনে হতো। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হয় নাই। পরবর্তীতে আমরা জানতে পেরেছি তার কারণ। শুনেছি তাকে নাকি এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিলো। যে কোন একজনকে নাকি বেছে নিতে হয়েছিল। ইতিহাসের কি নির্মম পরিহাস!!!পৃথিবী কোথায় আর আমরা কোথায়!!!! তারপর থেকেই তো কতো কথা শুনছি- শুধু শুনছি আর শুনছি। নেতারা যা বলে তা যেমন শুনছি- যা বলে না তা আরও বেশী করে শুনছি। বিজ্ঞ নেতৃবৃন্দ একবার শুধু ভেবে দেখুন কি করছেন আপনারা!!! ১৯৭১-এর মহান মুক্তিসংগ্রাম মানুষের মনে যে আশা আকাঙ্ক্ষার জন্ম দিয়েছিল সেটা বাস্তবায়নের ন্যূনতম চেষ্টাও কি করছেন আপনারা? মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদেরা যে আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছিল সেটা এখনও সম্পূর্ণ অংশে বাস্তবায়ন হয় নাই। এখনও মানুষে মানুষে অসাম্য বিরাজমান, সাম্প্রদায়িকতা বিরজমান, শ্রেণি-শোষণ বিরাজমান। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হয়ে গেলেও সমাজে এখনও মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার আর সাম্য প্রতিষ্ঠা পায় নাই। এর দায় কোন ভাবেই আপনারা এড়াতে পারেন না!!!!! নিঃসন্দেহে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে যার প্রমান বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকে বিদ্যমান। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের যে মৌলিক আকাঙ্ক্ষা সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার তা আজও প্রতিষ্ঠা হয় নাই। হে প্রভু ক্ষমা করো.......................।।।